যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও একজন নিহত, বিক্ষোভ তীব্র

মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও একজন নিহত, বিক্ষোভ তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যেই ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং শহর থেকে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়েছে।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, শনিবার হাসপাতালে মারা যান ৩৭ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। তাকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

নিহতের বাবা-মা তার পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, তার নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। তিনি একটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে ফেডারেল এজেন্ট ও অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রেনি গুড নামের ৩৭ বছর বয়সি এক নারী নিহত হওয়ার পর থেকে শহরজুড়ে প্রতিদিনই বিক্ষোভ চলছিল। ওই ঘটনায় আইসিই-এর এক কর্মকর্তা গাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালালে তিনি নিহত হন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, “এটি আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। আজ সেই অভিযানে আরেকটি প্রাণ ঝরে গেল।” তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অঙ্গরাজ্য নিজেই করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সদস্য এমন একজনকে গুলি করেন, যিনি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করছিলেন। বিভাগের দাবি, এটি ছিল আত্মরক্ষামূলক গুলি।

তবে ওপেন সোর্স অনুসন্ধানকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে প্রথম গুলির আগেই ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বন্দুক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ভিডিওতে অন্তত ১০টি গুলির শব্দ শোনা গেছে।

ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেট্টি মোবাইল ফোনে এজেন্টদের ভিডিও করছিলেন। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে একাধিক এজেন্ট মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। পরে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়।

ঘটনার পর শত শত বিক্ষোভকারী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ফেডারেল বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান।

গভর্নর ওয়ালজ জানান, তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

Next Post Previous Post

Advertisement