বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে অসহযোগিতা করেছে মমতা : মোদি
নয়াদিল্লি — বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোদির অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কাঁটাতারের বেড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক সহায়তা দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ স্থলসীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু পাচার এবং অন্যান্য চোরাচালানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে আসছে, সীমান্তে পূর্ণাঙ্গ বেড়া নির্মাণ এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান
এর আগেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকা ও মানবিক দিক বিবেচনা করেই তারা কিছু প্রকল্পে আপত্তি জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মোদির এই বক্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে। বিজেপি নেতারা কেন্দ্রের অবস্থানকে সমর্থন করলেও তৃণমূল কংগ্রেস একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ বলে আখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একটি সংবেদনশীল ইস্যু। দুই দেশই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কথা বলে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও এ ধরনের মন্তব্য আঞ্চলিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মতবিরোধ নতুন নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ বিষয়টিকে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
