পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সংঘর্ষ
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার সময় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর সোয়া ২টার দিকে এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে মোবাইল ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজার সড়কে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ এগোলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে এবং জলকামান ব্যবহার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক দফা সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শোনা গেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক বাড়িয়ে তোলে।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী ও পথচারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় ও আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানীর এই এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়, যার প্রভাব আশপাশের সড়কেও পড়ে।
এনইআইআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি
মোবাইল ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আমদানি ও বিক্রির ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়বে এবং ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাশাপাশি সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এনইআইআর নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও প্রস্তুতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় না করে এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান
পুলিশ জানিয়েছে, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সংঘর্ষের পর কারওয়ান বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও সেখানে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নাগরিক ভোগান্তি ও সামগ্রিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সড়ক অবরোধ ও সহিংসতা সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। তারা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
Source: Based on reporting from দৈনিক আমার দেশ
