আমিনুল হকের নেতৃত্বে সংবর্ধনাস্থলের বর্জ্য অপসারণ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৃহৎ জনসমাবেশের পরপরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেমেছে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। জনসমাবেশ ঘিরে সৃষ্ট বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে শুক্রবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগ শুরু হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির পর পরিবেশ ও নগর পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোরই নিতে হয়—এই নীতির আলোকে বিএনপি এবারও মাঠে নেমেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল থেকেই ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট মহাসড়ক), এয়ারপোর্ট রোড এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে জমে থাকা প্লাস্টিক, কাগজ, ব্যানার, পানির বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পরিষ্কার করা হচ্ছে। এসব সড়ক রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, জনসমাবেশ শেষে যাতে যান চলাচল ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে, সেজন্যই সকাল থেকেই কাজ শুরু করা হয়। অনেক জায়গায় ভারী যান চলাচলের কারণে জমে থাকা ময়লা দ্রুত সরানো প্রয়োজন ছিল।
দলীয় তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ
এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ।
বিএনপি নেতারা বলেন, বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই আয়োজনের পর জনদুর্ভোগ কমানো এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
পরিবেশ ও নাগরিক দায়িত্বের বার্তা
দলটির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও নগর পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সচেতন। তাদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই বিশৃঙ্খলা—এই ধারণা ভাঙতেই সংবর্ধনা শেষে পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় সমাবেশের পর দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলে পরিবেশ দূষণ কমে এবং নগরবাসীর ভোগান্তিও হ্রাস পায়। রাজনৈতিক দলগুলোর এমন উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশের পর আমিনুল হকের নেতৃত্বে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম বিএনপির একটি দায়িত্বশীল উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ ও নাগরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার এই প্রচেষ্টা রাজধানীর রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online.
