মাহমুদুর রহমানের আহ্বান শান্ত থাকুন, বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেবেন না
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের পরিচিত নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, আবেগ সংযত রেখে সুশৃঙ্খলভাবে শোক প্রকাশ করতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ না দিতে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর খবরে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং জাতির পক্ষ থেকে প্রার্থনার আহ্বান জানান।
শোক প্রকাশ ও প্রার্থনার আহ্বান
হাদির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, “এ মুহূর্তে জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা, যেন তিনি হাদির শাহাদাত কবুল করেন।” তিনি হাদিকে একজন সাহসী ও আদর্শনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এমন ব্যক্তিত্ব একটি জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
তার বক্তব্যে ধর্মীয় ও মানবিক দিকটি গুরুত্ব পায়। তিনি পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সহকর্মীদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবি
মাহমুদুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শরীফ ওসমান হাদিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার দাবিও জানান। তার মতে, এতে করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হাদির আদর্শ ও সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সচেতন হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি একটি বার্তা বহন করে, যা একটি সমাজের মূল্যবোধ ও ইতিহাসচেতনা গঠনে ভূমিকা রাখে।
শান্ত থাকার আহ্বান
দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, সুশৃঙ্খলভাবে হাদির জানাজা ও দাফনে অংশ নিন। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং শান্ত থাকুন।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তা দেশের স্বার্থবিরোধী শক্তির জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই শোক প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার অনুসারী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মাহমুদুর রহমানের শান্ত থাকার আহ্বান পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময় দায়িত্বশীল বক্তব্য সামাজিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং শোককে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক ধারায় প্রবাহিত করতে সহায়তা করে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মাহমুদুর রহমানের এই আহ্বান জাতীয় শোকের মুহূর্তে সংযম ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। শোক প্রকাশের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বার্তাই ছিল তার বক্তব্যের মূল সুর।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
