সিঙ্গাপুরে ইন্তেকাল করেছেন ওসমান হাদি

জুলাই আন্দোলনের সময় আলোচিত নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক জটিলতা নিয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ওসমান হাদির মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। সেখানে তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর রাজনৈতিক ও আন্দোলন-সম্পর্কিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।

চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার পটভূমি

এর আগে ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই তাঁকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মস্তিষ্কে বুলেটের অংশ রয়ে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তা বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা এবং সামগ্রিকভাবে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরিবার ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের তৎপরতা

ওসমান হাদির চিকিৎসার সময় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তদারকি করছিলেন।

এদিকে, তাঁর অসুস্থতা ও চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল, যাতে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো ঘাটতি না থাকে।

রাজনৈতিক পরিচিতি ও ভূমিকা

ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের সময় একজন সক্রিয় ও পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, বক্তব্য ও সংগঠনের কার্যক্রমে সামনে থেকে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয় এবং তরুণদের একটি অংশের মধ্যে তিনি পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন।

তাঁর মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা জানাচ্ছেন এবং তাঁর অবদান স্মরণ করছেন।

অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া

ওসমান হাদির অফিসিয়াল পেইজে দেওয়া পোস্টে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়। পোস্টে ব্যবহৃত ভাষ্যটি তাঁর সমর্থকদের অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসাজনিত জটিলতার কথাই জানানো হয়েছে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির ইন্তেকাল সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় যোগ করল। তাঁর মৃত্যু আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও অনুসারীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement