হাদির খুনিকে পালানোর ব্যবস্থা করেন যুবলীগ নেতা

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার, মোট আটক ১১

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার, মোট আটক ১১

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে এই গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

পালানোর পরিকল্পনা ও সহায়তার অভিযোগ

ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের দিকে রওনা হন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পালানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক মিরপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম, যিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের একজন।

দালালচক্র ও আর্থিক লেনদেন

পুলিশ জানায়, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় দালাল ফিলিপ স্নালের মাধ্যমে ফয়সাল ও আলমগীরের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর তাইজুল ইসলাম তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে ফোন করে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে আমিনুল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান, যাতে দ্রুত সীমান্ত পারাপার নিশ্চিত করা যায়।

পরবর্তী অভিযানে ফিলিপ স্নালের দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো পালানোর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

আইনি অগ্রগতি ও রিমান্ড

গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ বলছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও অপরাধী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলে দাফন করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যের কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Source: Based on reporting from Dhaka Metropolitan Police (DB) and local law enforcement briefings

Next Post Previous Post

Advertisement