নুরের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হাসান মামুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটগত সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনকে। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হাসান মামুনকে বিএনপির সব ধরনের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জোটগত সমঝোতা ও মনোনয়ন বিতর্ক

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে শুরুতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন হাসান মামুন। তবে বৃহত্তর জোটগত কৌশলের অংশ হিসেবে আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নুরুল হক নুরকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান

বিএনপির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ দলের ঐক্য ও জোটগত কৌশলকে দুর্বল করে। সে কারণেই হাসান মামুনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে দল।

দলটির একাধিক নেতার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জোট রাজনীতিকে কার্যকর রাখতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় অন্য সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো বলে তারা মনে করছেন।

হাসান মামুনের পাল্টা বক্তব্য

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন হাসান মামুন নিজেই। তিনি বলেন, “আমি দল থেকে পদত্যাগ করেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। সুতরাং আমাকে বহিষ্কার করার প্রয়োজন ছিল না। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছি।”

তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলীয় পদত্যাগ ও বহিষ্কারের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ, যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই দেখছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে এখন পর্যন্ত নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনসহ মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসনটি উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা হওয়ায় এখানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও সমর্থকদের অবস্থান কোন দিকে যায়, সেটিই হবে নির্বাচনের অন্যতম নির্ধারক।

উপসংহার

হাসান মামুনকে বহিষ্কারের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি জোট রাজনীতিতে কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করতে চায় না। একই সঙ্গে এই ঘটনা পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনকে আরও আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement