বিএনপি থেকে এনসিপিতে গিয়েও ‘কপাল পুড়ল’ মনজুর কাদেরের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ও আসনভিত্তিক সমঝোতা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সেই হিসাব-নিকাশের বলি হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের। বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েও শেষ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।
এনসিপি ও জামায়াতসহ আট দলের মধ্যে হওয়া নির্বাচনি সমঝোতার কারণে আসনটি জামায়াতের জন্য ছেড়ে দিতে হচ্ছে এনসিপিকে। ফলে দল পরিবর্তনের পরও মনজুর কাদেরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিএনপি ছাড়ার পর নতুন আশায় এনসিপি
মনজুর কাদের দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তখনই আলোচনা শুরু হয়—তিনি নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে যাচ্ছেন কি না।
এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেন এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে এনসিপির প্রাথমিক মনোনয়নও পান। গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত ১২৫ জন প্রার্থীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি ২২ ডিসেম্বর তার পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়।
জোট রাজনীতিতে বদলে গেল হিসাব
তবে পরিস্থিতি বদলে যায় এনসিপির সঙ্গে জামায়াত ও অন্যান্য দলের নির্বাচনি সমঝোতার পর। ১০ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে আসন ভাগাভাগির সিদ্ধান্তে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনটি জামায়াতের জন্য নির্ধারিত হয়। এর ফলে এনসিপিকে এই আসনে নিজ প্রার্থী প্রত্যাহার করতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মনজুর কাদেরের ওপর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোট রাজনীতিতে এ ধরনের সমঝোতা নতুন নয়। তবে দল পরিবর্তনের পরপরই মনোনয়ন হারানো মনজুর কাদেরের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু মনজুর কাদের নন, আরও প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো
একই জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে সিরাজগঞ্জের আরও দুটি আসনেও এনসিপির প্রার্থীদের সরে দাঁড়াতে হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ–তাড়াশ) আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতিকেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তবে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ১০ দলীয় জোটের সমর্থনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে এস এম সাইফ মোস্তাফিজকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে সব আসনে নয়, নির্দিষ্ট কিছু আসনে এনসিপি নির্বাচনে থাকছে।
জামায়াতের অবস্থান
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১০ দলীয় সমন্বয়ের অংশ হিসেবে জেলায় চারটি আসনে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। তার ভাষায়, জোটের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা
মনজুর কাদেরের ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে জোট সমীকরণ অনেক সময় বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। দল বদল করলেও জোট রাজনীতির বাস্তবতায় টিকে থাকা যে কতটা কঠিন, সিরাজগঞ্জের এই ঘটনাই তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
