তারেক রহমানকে নিয়ে পোস্ট শফিকুর রহমানের

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া, স্বাগত জানালেন শফিকুর রহমান ও সারজিস আলম

তারেক রহমান দেশে ফেরা, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বাংলাদেশ রাজনীতি—দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন বা বিরোধী—বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, “জনাব তারেক রহমান, স্বপরিবারে সুস্বাগতম!” একই পোস্টে তিনি দৈনিক যুগান্তরের একটি ফটোকার্ড সংযুক্ত করে মন্তব্য করেন, “আবার স্বাগতম! বাংলাদেশ আপনার কাছ থেকে ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার স্বাগত বার্তা

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেবল বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঘটনা হিসেবে নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অন্য দলগুলোর নেতারাও। জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম নেতা সারজিস আলম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশে ফিরছেন। স্বৈরাচারের পতন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক ক্রমধারার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি দেশে আসছেন।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানো হচ্ছে এবং দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সারজিস আলমের ভাষায়, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি।

বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনার পথে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে পূর্বনির্ধারিত বাসে করে রাজধানীর পূর্বাচলের ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট সড়ক) এলাকায় গণসংবর্ধনার সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও নেতাকর্মী তাকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

বাসটির গায়ে লেখা ছিল, “সবার আগে বাংলাদেশ”—যা বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেও আলোচিত। পথে পথে হাসিমুখে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় তারেক রহমানকে।

আবেগঘন মুহূর্ত ও পারিবারিক সাক্ষাৎ

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান।

ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রওনা হন। কিছুক্ষণ পর ভিভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসে তারেক রহমান জুতা খুলে শিশিরভেজা ঘাসে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন—যা উপস্থিত অনেকের কাছে প্রতীকী ও আবেগঘন দৃশ্য হিসেবে ধরা পড়ে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং বিরোধী রাজনীতির সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রকাশ্য স্বাগত বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই প্রত্যাবর্তন কেবল দলীয় নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।

আগামী দিনগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্য, কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক অবস্থান দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের নজর।

Source: Based on reporting from social media posts of political leaders, BNP sources, and local media reports

Next Post Previous Post

Advertisement