আগামীকাল সকালে দেশে আনা হবে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের আলোচিত কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আগামীকাল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. আব্দুল আহাদ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসকের বক্তব্য
ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, “আমাদের প্রাণপ্রিয় জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদি ভাইকে আল্লাহ শহিদ হিসেবে কবুল করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে আমরা জানতে পেরেছি, হাদি ভাই আমাদের সবাইকে ছেড়ে পরপারে চলে গিয়েছেন। আল্লাহ তাকে শহিদ হিসেবে কবুল করুন।”
তিনি আরও বলেন, “এই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবে যারা আছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের পক্ষে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি, যেন তারা এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন।”
মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি
চিকিৎসক জানান, সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে শুক্রবার সকালের দিকে শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। এরপর পারিবারিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
মৃত্যুর তথ্য
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর বিষয়টি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শোক ও প্রতিক্রিয়া
হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
```