বেগম জিয়ার কারাজীবন

বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল

বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন

ঢাকা | মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং বেগম জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান

গত ২৩ নভেম্বর বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে কেবিন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

স্বাস্থ্যগত জটিলতা

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে ছিল—

  • লিভার ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা
  • হৃদরোগ
  • উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
  • আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা

আপসহীন নেত্রী

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে বহুবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করলেও কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার কারাজীবন

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে মোট ৫ বার গ্রেফতার হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আটক

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর—এই তিন দফায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঈনুদ্দিন–ফখরুদ্দিন সরকারের সময়

২০০৭ সালে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং এক বছরের বেশি সময় কারাবরণ করতে হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ দুর্নীতির মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব জেলে রাখা হয়।

২০০৭ সালের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা তিনি কারাগারেই পালন করেন। এ সময় তার দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানও কারাবন্দি ছিলেন।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৩৭২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

শেখ হাসিনার শাসনামলে কারাবাস

২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড কারাগারে এবং পরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে বন্দি ছিলেন।

২৫ মার্চ ২০২০ শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তার দণ্ড মওকুফ করা হয় এবং ২৭ নভেম্বর তিনি দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পান।

Next Post Previous Post

Advertisement