নোয়াখালীতে দু'গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠন ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সোমবার সকালে সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের পটভূমি

স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচন এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর ব্যানারে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধন চলাকালে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও তাঁর সমর্থকরা সেখানে হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দ্রুত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।

ককটেল বিস্ফোরণ ও আহতের অভিযোগ

আহতদের মধ্যে হাইকোর্টের একজন আইনজীবীও রয়েছেন। আহত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ সাংবাদিকদের জানান, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনের ওপর হামলার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের নেতা সেলিম ও আজাদকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্মসূচি আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওসি মোরশেদ আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধে সহিংসতা উদ্বেগজনক। তাদের মতে, স্কুলের প্রশাসনিক বিষয় শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সমাধান হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ আর না ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিটি গঠন ঘিরে বিরোধ নোয়াখালীর মতো এলাকায় নতুন নয়। তবে প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

উপসংহার

কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ স্থানীয় রাজনীতি ও শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বলতা আবারও সামনে এনেছে। তদন্ত শেষে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কতটা স্থায়ীভাবে শান্ত হয়।

Source: Based on reporting from Daily Inqilab

Next Post Previous Post

Advertisement