হাদির হত্যাকারী ফয়সালের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো হাতে আসেনি।

রোববার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স কক্ষে ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও গুজবের প্রেক্ষাপটেই পুলিশের এই ব্যাখ্যা আসে।

ফয়সালের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি

অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “অনেক সময় অপরাধীদের অবস্থান নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। ফয়সাল যে দেশের বাইরে চলে গেছে—এমন তথ্য যাচাই করে দেখেছি, তবে তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র এখনো পাওয়া যায়নি।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনানুষ্ঠানিক সূত্রে ছড়ানো তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তদন্তের ফল প্রায়ই মিলছে না।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ফয়সালের সম্ভাব্য গতিবিধি, যোগাযোগ এবং সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ডাটাবেসও যাচাই করা হচ্ছে।

তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তার

প্রেস ব্রিফিংয়ে খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “আমরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে তদন্ত করছে,” বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র মতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক বোঝার চেষ্টা চলছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি অপরাধ।

হাদি হত্যাকাণ্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের পরিচিত মুখ। তার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়; এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মতপ্রকাশের নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

ঢাকার এক অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, “এই ধরনের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্তের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে গুজব ছড়ায়। পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে তথ্যভিত্তিক আপডেট দিয়ে সেই গুজব ঠেকানো।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের বার্তা

ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি জানান, চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং আলোচিত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি। তিনি আশ্বাস দেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো গাফিলতি করা হবে না এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের এই বক্তব্যে আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার—ফয়সালের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও তদন্ত থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement