শহীদ হাদির কবর দেখতে মানুষের ভিড়, রাতেও থাকবে পুলিশ প্রহরা
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফনের পরও তার কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের কবরস্থান এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি সংলগ্ন প্রবেশপথে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাতভর পুলিশি প্রহরা জোরদার রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ হাদি, কবর জিয়ারত, পুলিশ প্রহরা—এই বিষয়গুলো শনিবার রাতে রাজধানীর আলোচনায় উঠে আসে। শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা ছিল আবেগঘন।
সন্ধ্যা পেরিয়েও কবরস্থানে মানুষের উপস্থিতি
শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক মানুষ কবরস্থানের বাইরে দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন। কেউ কবর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন। কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশ সীমিত থাকলেও বাইরের অংশে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের অংশ এবং নজরুলের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় আবেগাপ্লুত মানুষকে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে এবং স্মৃতিচারণ করতে দেখা যায়।
ব্যারিকেড সরানো হলেও নিরাপত্তা বহাল
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় কবরস্থানের সামনের অংশের নিরাপত্তা বলয় আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। শাহবাগ থানা ও টিএসসি এলাকায় দেওয়া ব্যারিকেডও তুলে নেওয়া হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। কবরস্থানে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত মসজিদের গেট এবং বাইরের মূল গেটেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
রাতে কবরস্থানে প্রবেশ নিষেধ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তার কারণে রাতের বেলা কবরস্থানের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ কেবল বাইরে থেকেই দোয়া ও শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে এখানে পুলিশি প্রহরা থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীকালও এই এলাকায় বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হতে পারে।”
কবে নাগাদ কবরস্থানটি আবার পুরোপুরি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে—এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।
দাফন ও জানাজায় শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি
এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ হাদির পরিবার-পরিজন উপস্থিত ছিলেন।
তার আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
শ্রদ্ধা আর শোকের প্রতিচ্ছবি
বিশ্লেষকদের মতে, দাফনের পর রাত পর্যন্ত মানুষের এই উপস্থিতি শহীদ হাদির প্রতি জনমানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রতিফলন। শোকের পাশাপাশি এটি ন্যায়বিচারের দাবিকেও আরও দৃশ্যমান করছে বলে মনে করছেন তারা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
