চার দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার ও সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার রাতে সংগঠনটি তাদের পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে চার দফা দাবি সামনে রেখে পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা প্রকাশ করে। আগামী সোমবার ঢাকার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

হাদি হত্যার বিচারকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসূচি

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে রোববার দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা অবরোধ কর্মসূচি আপাতত প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে আন্দোলন বন্ধ নয়, বরং তা নতুন কৌশলে আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে, যারা পরিকল্পনা করেছে, যারা সহযোগিতা করেছে এবং যারা পলায়নে সহায়তা করেছে—পুরো খুনি চক্রকে আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।” তার ভাষায়, এটি কেবল একটি হত্যার বিচার নয়, বরং ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার প্রশ্ন।

চার দফা দাবির বিস্তারিত

ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে প্রথম ও প্রধান দাবি হলো—হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের বিচার ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা। দ্বিতীয় দাবিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, যদি ভারত তার ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া অভিযুক্তদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। চতুর্থ দাবিতে সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষাঙ্গনকেন্দ্রিক আন্দোলনের প্রস্তুতি

পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার দুপুর ২টায় শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের মধ্যেই আমাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।”

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলো দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, হাদি হত্যার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার দাবি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও সংগঠিত ও কঠোর হবে। তাদের দাবি, এটি কোনো দলীয় আন্দোলন নয়; বরং ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে একটি গণআন্দোলন।

হাদি হত্যার বিচার নিয়ে এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, তা নির্ভর করবে সরকারের পদক্ষেপ এবং তদন্ত অগ্রগতির ওপর। তবে আপাতত শাহবাগকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement