ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে লন্ডনের পথে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের পথে রওনা হন। দলীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নিতেই এই সফর।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের কারণেই ডা. শফিকুর রহমান বুধবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
সফরের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও মানবাধিকারসহ পারস্পরিক আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ বলে নিশ্চিত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারির প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর বিদেশি কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। এই সফরকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জামায়াতের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ
জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। যুক্তরাজ্যে দলটির উল্লেখযোগ্য প্রবাসী সমর্থক রয়েছে এবং ব্রিটেনভিত্তিক রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও দলটির কৌশলের অংশ।
দলীয় সূত্র বলছে, এই সফরে ডা. শফিকুর রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করতে পারেন। তবে সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
দেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ডা. শফিকুর রহমানের এই লন্ডন সফর দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ে বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্যের মতো প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কূটনৈতিক সমর্থন বা বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে। তবে এসব বৈঠকের ফলাফল কতটা দৃশ্যমান হবে, তা নির্ভর করবে আলোচনার বিষয়বস্তু ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
ফেরার সময়সূচি অনিশ্চিত
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমানের দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। সফর শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে জামায়াত আমিরের এই সফর দেশের রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Source: Based on reporting from দৈনিক আমার দেশ
```