হাদির খুনীদের ফেরত দেয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে না: নাহিদ
হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হাদির খুনিদের ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর শাহবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হাদি শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না, বরং তিনি একটি রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। তাঁর ভাষায়, “আমরা শোকাহত নই, আমরা হাদিকে ধারণ করি। তার অসমাপ্ত লড়াই আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হাদির আন্দোলন ভারতের দীর্ঘদিনের আধিপত্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধেই ছিল।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা, তবে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আন্দোলনের কৌশল সম্পর্কে বলেন, সংগ্রাম হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর জোর দিলেও সতর্ক করে বলেন, যদি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়, তাহলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা হবে। তার মতে, অতীতের জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম জানান, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, শাহবাগের আন্দোলন আপাতত চলমান থাকবে। “কেউ বাড়ি ফিরে যাবো না,”—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানান। তার দাবি, সারাদেশে এই ইস্যুতে গণআন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, হাদির খুনিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তার ভাষায়, “যদি রক্ত ঝরে, এই দেশের মানুষের সঙ্গে কেউ পারবে না।” তবে তিনিও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
হাদি হত্যাকাণ্ড ইতোমধ্যে দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। রাষ্ট্রপতি, রাজনৈতিক দল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শোক প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) হাদিকে “একনিষ্ঠ ও লড়াকু তরুণ কণ্ঠস্বর” হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী বিশেষ দোয়ার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং এটি এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এমন কঠোর বক্তব্য ভবিষ্যতে দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।
শেষ কথা
হাদি হত্যার বিচার এবং খুনিদের প্রত্যর্পণ এখন একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। শাহবাগকেন্দ্রিক এই আন্দোলন কোন পথে এগোবে এবং এর কূটনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।
Source: Based on reporting from Jamuna TV
