খুনি যত শক্তিশালী হোক, বিচার শাহবাগ থেকেই আদায় হবে: জুমা

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছেন, “খুনি যত শক্তিশালীই হোক, তার বিচার শাহবাগ থেকেই আদায় করে নেওয়া হবে।” তার এই বক্তব্য শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, শহীদ হাদি হত্যার ঘটনায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব যদি নাগরিক সংগঠনকে নিতে হয়, তাহলে জনগণের করের টাকায় সরকার পরিচালনার যৌক্তিকতা কোথায়?”

তিনি অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শাহবাগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

শাহবাগ অবরোধ ও স্লোগান

মিছিল শাহবাগ মোড়ে পৌঁছানোর পর অবস্থানকারীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগ চত্বরে মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সমাবেশে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল—“নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার”, “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”, “এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে” এবং “লীগ ধর, জেলে ভর”। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

শহীদ হাদির স্মৃতিচারণ

বক্তব্যের শুরুতে ফাতিমা তাসনিম জুমা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “যে ভাইয়ের কণ্ঠে আমরা রাজপথে স্লোগান শুনতাম, আজ তাকে কবরে রেখে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে। এটা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো ইনকিলাব টিমের জন্য অপূরণীয় শোক।”

তিনি আরও বলেন, হাদির আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। নাগরিক আন্দোলন, ছাত্রসংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শাহবাগে আবারও অবস্থান কর্মসূচি ও অবরোধের ঘটনা অতীতের গণআন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তবে একই সঙ্গে এটি জনজীবন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

উপসংহার

“খুনি যত শক্তিশালী হোক, বিচার আদায় হবে”—এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করতে প্রস্তুত নয়। সরকারের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে, এই আন্দোলন ভবিষ্যতে কোন পথে এগোয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post.

Next Post Previous Post

Advertisement