হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে রিট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তারা বিদেশে অবস্থান করলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদনও জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এই রিটটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) মানবাধিকার সংগঠন সারডা সোসাইটির পক্ষে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে কী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে

রিটকারী জানান, আবেদনে একাধিক বিষয়ে রুল ও নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সন্দেহভাজনরা বিদেশে থাকলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাদের দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া।

রিটে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্তত দুজন মূল অপরাধী বিদেশে অবস্থান করতে পারে—এমন তথ্য সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও জনস্বার্থ

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, কোনো অপরাধী বিদেশে পালিয়ে গেলে ইন্টারপোলের রেড নোটিসসহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকর করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

রিটে উল্লেখ করা হয়, অপরাধীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং জনমনে আস্থাহীনতা বাড়ে। তাই সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একসঙ্গে জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব ও আইনি কাঠামো

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ইন্টারপোলের সদস্য হওয়ায় এনসিবির মাধ্যমে রেড নোটিস জারি ও তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক প্রমাণ এবং আদালতের নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রিটকারীর দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও বার্তা যাবে।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

হাইকোর্টে রিটটি গ্রহণযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে জবাব চেয়ে রুল জারি হতে পারে। আদালত সন্তুষ্ট হলে গ্রেপ্তার, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রিটের শুনানি ও আদেশ দেশের উচ্চপ্রোফাইল অপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement