মাকে দেখতে এভারকেয়ারে তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার দিনেই অসুস্থ মাকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ করে তিনি সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছান, যেখানে তাঁর মা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এই মানবিক মুহূর্তটি ঘিরে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে তিনি কিছু সময় মায়ের শয্যার পাশে অবস্থান করেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

সংবর্ধনা শেষে সরাসরি হাসপাতালে যাত্রা

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে চারটার দিকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি সেখানে উপস্থিত হন। হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারেক রহমান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান আল্লাহর দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।” দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার অনুভূতিও তিনি সংক্ষেপে তুলে ধরেন।

মায়ের অসুস্থতা নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য

সংবর্ধনাস্থল থেকেই দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “সন্তান হিসেবে আমার মন হাসপাতালে শুয়ে থাকা আমার মায়ের বিছানায় পড়ে আছে। আমি এখান থেকে আমার মায়ের কাছে যাবো। সবাই দোয়া করবেন, যেন তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেও আবেগের ছাপ দেখা যায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে এই বক্তব্যকে একজন সন্তানের স্বাভাবিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর এমন এক দিনে দেশে ফিরে মায়ের অসুস্থতার খবরে তাঁর হাসপাতালে ছুটে যাওয়া বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক ও মানবিক দিকের মিলন

তারেক রহমানের দেশে ফেরা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনাটি তাঁর ব্যক্তিগত ও মানবিক দিকটি সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর একদিকে যেমন তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক, অন্যদিকে একজন সন্তানের পারিবারিক দায়িত্ব ও অনুভূতির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরাও জানিয়েছেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত রেখে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দলের মধ্যেও সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে দেখা হয়েছে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রথম দিনেই মাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়া তারেক রহমানের জীবনের একটি আবেগঘন অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও ব্যক্তিগত অনুভূতি ও পারিবারিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই মুহূর্তটি দেশবাসীর কাছে ভিন্ন এক বার্তা দিয়েছে। এখন দৃষ্টি থাকবে তাঁর মায়ের সুস্থতা ও আগামী দিনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যক্রমের দিকে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement