হাদিকে গুলি: ফয়সালকে পালাতে সাহায্যকারী আরো দুইজন রিমান্ডে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানি

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এলাকা থেকে সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার পটভূমি

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

হামলার বিবরণ

এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

তদন্তের অগ্রগতি

এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ও বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমার পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১৬ ডিসেম্বর ফয়সালের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবিরের সাত দিনের রিমান্ড এবং ১৭ ডিসেম্বর গুলি করার পর পালাতে সহায়তাকারী নুরুজ্জামান নোমানীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Next Post Previous Post

Advertisement