এনবিআরের দুই বিভাগে সচিব নিয়োগে আসছে নতুন নীতিমালা, রাজস্ব আহরণে জোর তাগিদ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব বাস্তবায়ন—এই দুটি নতুন বিভাগে সচিব নিয়োগের জন্য আলাদা নীতিমালা করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা।
সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের নতুন যে দুটি বিভাগ হবে সেখানে সচিব নিয়োগ কীভাবে হবে, সেটার একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। যোগ্যতা অনুযায়ীই যেন নিয়োগ হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু রাজস্ব কার্যক্রম চালাতে হবে, সেহেতু ঊর্ধ্বতন পদগুলোতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন আছে। এটি করলে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরও গতি পাবে।”
রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “রাজস্ব আদায় বর্তমানে খুবই কম। এটি যেন বাড়ানো যায়, গ্রাহক সেবা যেন উন্নত হয় এবং হয়রানি বন্ধ হয়—এই বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে।”
পানগাঁও কাস্টমস হাউসে এনবিআর চেয়ারম্যানের তৎপরতা
এদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সম্প্রতি পানগাঁও কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কায়িক পরীক্ষণ ও অটোমেটেড অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। আলোচনায় তিনি দ্রুত পণ্য খালাস, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মামলা হ্রাস, বকেয়া আদায় এবং নিলাম কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেন।
চেয়ারম্যান বলেন, “রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট (পিসিএ) জোরদার করা জরুরি।” তাঁর ভাষায়, “রাজস্ব বিভাগ যে কোনো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এখানকার ক্ষতি মানে রাষ্ট্রের ক্ষতি।”
তিনি আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন এবং কাস্টমস হাউসের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
প্রশ্ন রইল
সরকারের এই উদ্যোগে এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা কি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে? নতুন নীতিমালা কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে আপনি মনে করেন?
