ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরছে বাংলাদেশ? গাজী টিভির আলোচনায় তীব্র সমালোচনা
জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল গাজী টিভির টকশো ‘টাইমলাইন বাংলাদেশ’-এ সম্প্রতি একটি আলোচনায় উঠে এসেছে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, মব সৃষ্টির রাজনীতি এবং ভয়ের সংস্কৃতির আশঙ্কা। আলোচনায় সরব হন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. জাহেদ উর রহমান।
উপস্থাপিকার সরাসরি প্রশ্ন ছিল, “ভয়ের একটা সংস্কৃতির মধ্যে কি আমরা আবার ঢুকে পড়ছি? যে সংস্কৃতি থেকে বের হয়েই তো বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। তাহলে কি আবার আমরা সেই ভয়ের সংস্কৃতিতে ঢুকে যাচ্ছি?”
জবাবে ড. জাহেদ বলেন, “আপনি ইন্ট্রোতে বললেন মিছিল হয়েছে। আমি ভয় সংস্কৃতি প্রশ্নে আসছি, তবে আগে বলি—মিছিলটা কার বিরুদ্ধে হয়েছিল? মিছিলটা হওয়ার কথা ছিল সরকারের একজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে। উনি—ছাত্র উপদেষ্টা—একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন: ‘প্রস্তর যুগে স্বাগতম। কেউ যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেন, ধন্যবাদ।’ মানে উনি একটু মজা করেই বললেন, দেশ নাকি প্রস্তর যুগে ফিরে গেছে—একটি রাজনৈতিক দলের কারণে। অথচ আপনি তো এক বছর ধরে ক্ষমতায়! যদি সত্যি দেশ প্রস্তর যুগে ফিরে যায়, তাহলে সেটার দায় তো আপনার। এটা বুঝার সামান্য বুদ্ধিও ওই উপদেষ্টার নেই।”
তাঁর ভাষায়, “একটা সহজ প্রশ্ন করি—বিএনপি চাঁদাবাজি করবে না, খুনাখুনি করবে না—এই প্রত্যাশা আপনি রাখতে পারেন না। কিন্তু রাষ্ট্র বা সরকার কি এই অনিয়ম রোধ করার জন্য নেই? তাদের হাতে তো কোয়ারসিভ ফোর্স, পুলিশ, বাহিনী, তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা আছে। আমাদের ২ লাখ কোটি টাকার মতো উন্নয়ন বাজেট, আর ৫.৫ লাখ কোটি টাকার মতো অপারেশনাল বাজেট। ঘুষ-দুর্নীতির কথা বাদও দিলে, আমরা সরকারকে তো টাকা দিয়ে পুষি—এই কাজগুলো করার জন্যই। যদি সরকার সেটা ঠেকাতে না পারে, তাহলে তারা কেন ক্ষমতায় আছে?”
সম্প্রতি পর্যবেক্ষণ: দেশের রাজনীতি ও সামাজিক পরিমণ্ডলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে চাপের অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে সরকারি সূত্রে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, বরং বলা হচ্ছে—রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষাই এখন মূল অগ্রাধিকার।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—গণতন্ত্রের পথে কি আবারও রুদ্ধ হয়ে পড়ছে মত প্রকাশের দরজা? দর্শক, আপনাদের কি মনে হয়—আমরা কি আবার সেই পুরনো ভয়ের বৃত্তে ফিরে যাচ্ছি?
