গাজা-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি আসন্ন? আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট

গাজা সংকট ঘিরে নতুন আশার আলো! মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গাজা ও ইসরাইলের মধ্যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহেই একটি সমঝোতা সম্ভব হবে।” — এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও গত মাসে এমন আশার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তখন তিনি বলেছিলেন, গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো ইসরাইল মেনে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “হামাস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে।”

তবে জটিলতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইসরাইলের দাবি, কাতারের মাধ্যমে হামাস যে সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে, তা তারা গ্রহণযোগ্য মনে করছে না। যদিও ইসরাইলি প্রতিনিধিদল দোহায় থেকেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

দোহা আলোচনায় এখন যে বিষয়গুলো রয়েছে:

  • ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি
  • ১০ জন জীবিত ও ১৮ জন মৃত ইসরাইলি জিম্মির মুক্তি
  • স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা

আনাদোলুর প্রতিবেদন বলছে, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল বাধা ইসরাইলের 'বাফার জোন' নিয়ন্ত্রণের একগুঁয়ে অবস্থান। এর পাশাপাশি ইসরাইল জানিয়েছে, রাফায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং সেখানে একটি ‘সংগ্রহ শিবির’ স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে। এটি যুদ্ধবিরতির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

এদিকে, গাজার মানুষ এখনো মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। রোববার গাজায় পানির খোঁজে থাকা অবস্থায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয় ৭টি শিশু। একই দিনে ইসরাইলি বোমা বর্ষণে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৯৫ জন ফিলিস্তিনি। চলমান সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে।

সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “গাজা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে শান্তির একটা পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।”

এদিকে, গাজার উদ্দেশে আবারও একটি নতুন ত্রাণবাহী জাহাজ পাঠানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে আন্তর্জাতিকভাবে।

প্রশ্ন রয়ে গেলো—এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক বিরতি, নাকি একটি স্থায়ী শান্তির সূচনা? বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে দোহা আলোচনার ফলাফলের দিকে।

Next News Previous News