তিনটি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি: কী মিলবে ন্যায়বিচার?
দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিতর্কিত তিন জাতীয় নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪—নিয়ে অবশেষে তদন্তে নামছে অন্তর্বর্তী সরকার। হাইকোর্ট বিভাগের এক সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
কমিটির কাজ হবে এই তিনটি নির্বাচনের অনিয়ম ও অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, দায় পর্যালোচনা করা এবং ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ প্রদান করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত কতদূর যাবে, কাদের তদন্তের আওতায় আনবে—তা এখনো অস্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তদন্তে শুধু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়ও মূল্যায়ন জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বললেন, “শুধু সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। আইনের কোথায় ত্রুটি, আচরণের কোথায় ত্রুটি, সরকারের কোথায় ত্রুটি আছে—এসব দেখতে হবে।”
তাঁর ভাষায়, “নির্বাচন কমিশনের সামনে সরকারের নির্দেশ লঙ্ঘন করার কোনো অপশন ছিল কি-না, সেই অপশন তারা কাজে লাগাতে পারলো না কেন—এসব বিষয় দেখা উচিত।”
অন্যদিকে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক মুনিরা খান প্রশ্ন তোলেন, তদন্তের আওতা কী হবে? তিনি বলেন, “তারা কি নির্বাচন কমিশনে যারা বসে আছেন, শুধু তাদেরই বিচারের আওতায় আনবেন? প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা যারা দেখেছেন—তাদের সবাইকেই কি বিচারের আওতায় আনা হবে?”
তাঁর আশঙ্কা, “এ কয়টা দিনে তারা তদন্ত করে কতটুকু বের করতে পারবে? তবে একটা জিনিস আশা করবো, নির্দোষ কাউকে যেন দোষী করা না হয়।”
কমিটিতে সাবেক আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, ভোটারদের আস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হবে কি না—সে প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
আপনার কী মনে হয়—এই তদন্তে সত্যিই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, নাকি আবারও তা রয়ে যাবে প্রশ্নবিদ্ধ?
