ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: “স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনও হতে দেব না

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে। যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি চান বটে, তবে ভবিষ্যতের কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “সার্বভৌম নিরাপত্তা ক্ষমতা সবসময় আমাদের হাতেই থাকবে।”

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন তিনি। বৈঠকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “এই হামলাই প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনিরা যদি একটি রাষ্ট্র পায়, তাহলে তারা কী করতে পারে।”

এই আলোচনার এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান সম্ভব কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এই প্রশ্ন নেতানিয়াহুকে করুন।”

জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের শাসন করার সকল ক্ষমতা থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন কোনো ক্ষমতা তাদের হাতে থাকা উচিত নয়।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “তারা রাষ্ট্র গড়ে না—তারা মাটির নিচে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে সন্ত্রাস চালায়। তারা গণহত্যা করে, ধর্ষণ করে, শিরশ্ছেদ করে, আমাদের শহর ও বসতিতে হামলা চালায়। এই ধরনের সহিংসতা আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কখনও দেখিনি।”

ফলে তাঁর বক্তব্য, “তাদের আরেকটা রাষ্ট্র দিলে সেটি হবে ইসরায়েল ধ্বংসের প্ল্যাটফর্ম। তাই আমরা সেটা হতে দেব না। এখনও না, ভবিষ্যতেও না। কখনই না।”

তবে তিনি বলেন, “আমরা শান্তি চাই—সেই ফিলিস্তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে, যারা আমাদের ধ্বংস করতে চায় না। তবে সেই শান্তিতে আমাদের সার্বভৌম নিরাপত্তা ক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকবে।”

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে—যার অন্তর্ভুক্ত পূর্ব জেরুজালেম, গাজা ও পশ্চিম তীর। কিন্তু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়া ধ্বংস করছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন এবং চলমান যুদ্ধের সময় গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। যদিও ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই বক্তব্য শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তোলে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এত বছরের আলোচনার পরও যদি ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ স্বপ্নই থেকে যায়, তবে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির আশা কি আদৌ সম্ভব?

Next News Previous News