যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরবকে ৩৫০ কোটি ডলারের এআইএম-১২০সি-৮ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে এক হাজার ইউনিট এআইএম-১২০সি-৮ মাঝারি পাল্লার এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। সম্ভাব্য এই অস্ত্র বিক্রির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রি প্রস্তাব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তির আওতায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ সেবাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ডিএসসিএ-র বিবৃতিতে বলা হয়, “এই বিক্রির ফলে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা পাবে।”
এআইএম-১২০সি-৮, যা 'অ্যাডভান্সড মিডিয়াম রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার মিসাইল' (AMRAAM) নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক এবং নির্ভুল গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র। এটি আধুনিক ফাইটার জেট থেকে নিক্ষেপযোগ্য এবং শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এলেনা ম্যাকার্থি বলেন, “এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি কৌশলগত সম্পর্কের আরেকটি নিদর্শন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসহ সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।”
তবে এই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, অতীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক প্রাণহানি ঘটিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই অস্ত্র সরবরাহ সেই সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জাতিসংঘের অস্ত্র পর্যবেক্ষক এবং গবেষক ড. সামির হান্না বলেন, “যেকোনো অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার বিবেচনা করা জরুরি। সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি বেসামরিক নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে এখন মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, যা সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এআইএম-১২০সি-৮ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
