বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদে ঘুষ: দালালের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রমাণ পেল দুদক

BRTA Report
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের গোপন তদন্তে দেখা গেছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ফি উপেক্ষা করে ঘুষের বিনিময়ে দ্রুত সনদ ইস্যু করা হচ্ছে—যার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীনে একটি তদন্ত দল সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানকার কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে দালাল চক্রের সুস্পষ্ট যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেনের আলামত পাওয়া গেছে।

ঘুষের পরিমাণ সাধারণত প্রতি লাইসেন্সে ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত, যা সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য করে দালালদের মাধ্যমে দ্রুততার অপশন দেখানো হয়।

“আমরা কয়েক দফা গোপন পর্যবেক্ষণ করেছি। দালালরা অফিস চত্বরে সরাসরি গ্রাহকদের টার্গেট করে এবং ফর্ম পূরণ, পরীক্ষা, সনদসহ পুরো প্রক্রিয়া 'সহজে' করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তারা জড়িত আছেন এমন প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”
— দুদকের এক তদন্ত কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
“বিআরটিএ'র নির্ধারিত নিয়মেই আমরা কাজ করি। কেউ যদি বাহিরে কোনো দালালের সাথে লেনদেন করে, সেটা প্রতিষ্ঠানের দায় নয়। তবে অভিযোগ উঠলে আমরা আন্তরিকভাবে তদন্তে সহায়তা করবো।”
— এক কর্মকর্তা, বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর কার্যালয়
“টেস্ট দিতে এসে শুনলাম—দালাল ছাড়া কিছুই হয় না। তারা সরাসরি অফিসে ঢুকে সব কাজ করিয়ে দেয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে।”
— একজন ভুক্তভোগী লাইসেন্স প্রত্যাশী

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠছে। অতীতে দুদক একাধিকবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য অঞ্চলের বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের চিত্র উন্মোচন করেছে।

সরকারের ‘দালালমুক্ত বিআরটিএ’ ঘোষণা সত্ত্বেও বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসে ঘুষ ও মধ্যস্থতা প্রথা এখনো বহাল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ অফিসে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতি শুধু সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে না, বরং রাষ্ট্রীয় আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুষ-দালালি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত নজরদারি ছাড়া এ দুর্নীতির চক্র বন্ধ করা কঠিন হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

Next News Previous News