সুধা সদনের কর্মকর্তা এস এম মিজানুর রহমানকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলো

News Report
ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত সুধা সদনের সামনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এস এম মিজানুর রহমানকে আজ বিকেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, তার চলাফেরা ঘিরে জনমনে সন্দেহ তৈরি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেয়।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে, ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কের সুধা সদনের সামনের এলাকায়। এস এম মিজানুর রহমান শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় ছাত্র ও জনসাধারণের অভিযোগ, “তিনি গোপনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা বা নির্দেশনা বহন করছিলেন”—এমন সন্দেহ থেকেই তাকে আটক করা হয়। ধানমন্ডি থানার পুলিশ এস এম মিজানুর রহমানকে থানায় নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

“এই সরকার পতনের সময় যারা শেখ হাসিনার হয়ে মাঠে কাজ করেছেন বা করছেন, তারা এখনো সক্রিয় কিনা তা নিয়েই আমাদের শঙ্কা। সুধা সদনের আশপাশে অচেনা মুখ দেখলেই আমরা সতর্ক হই।”
— এক বিক্ষুব্ধ ছাত্র (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
“স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনকভাবে একজনকে আটক করে আমাদের খবর দেয়। আমরা গিয়ে তাকে হেফাজতে নিই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
— মাহবুবুর রহমান, অফিসার ইন চার্জ, ধানমন্ডি থানা
“রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।”
— ড. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সুদীর্ঘ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ধানমন্ডির সুধা সদন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় পরিণত হয়েছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সরকার পরিবর্তনের পর এই স্থাপনাটি বিশেষ নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার নানা বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের চলাফেরা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে বেড়েছে।

এস এম মিজানুর রহমানের আটক ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ আপাতদৃষ্টিতে জনসচেতনতার অংশ মনে হলেও, এর আইনি এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে, যদি না তা সতর্ক ও নিরপেক্ষভাবে মোকাবিলা করা হয়। এখন পর্যন্ত এস এম মিজানুরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন হয়নি, তবে পরিস্থিতির অগ্রগতি সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Next News Previous News