সাবেক আইজিপি বেনজীরের মেয়ের দুবাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ, দুই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ আদালতের
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে দুবাইয়ে থাকা একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দ এবং দুটি বিদেশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা তাহসিন রাইসার নামে দুবাইয়ে উচ্চমূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং দুটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পেয়েছি, যা আমাদের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পদগুলো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন স্থানান্তর বা গোপন করা না হয়, সেজন্য আদালতের এই আদেশ জরুরি ছিল।”
মূল তথ্য
জব্দ করা ফ্ল্যাটটি দুবাইয়ের একটি অভিজাত আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বলে জানা গেছে। অবরুদ্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাব দুটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পদের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, দুদকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার উপরে হতে পারে।
দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্টের আওতায় আদালতে আবেদন করে। আদালতের বিচারক মো. আশ-শামস জগলুল হোসেন আদেশ প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি সম্পদকে 'অস্থায়ীভাবে জব্দ' এবং ব্যাংক হিসাবকে 'অপরিবর্তনযোগ্য' হিসেবে বিবেচনা করতে বলেন।
বেনজীর আহমেদকে ঘিরে অভিযোগ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সম্পদ গোপনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেনজীর এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ব্যবসা এবং বিদেশে স্থাবর সম্পদের মালিকানা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে বেনজীর আহমেদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি। তবে পূর্বে স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি অভিযোগগুলোকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন” বলে দাবি করেছিলেন।
ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান ও ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার শাফকাত মাহমুদ বলেন, “যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি প্রমাণ করবে যে কীভাবে দুর্নীতির অর্থ প্রবাসে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে গচ্ছিত রাখা হয়। দুদক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ইতিবাচক।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নাগরিক সমাজের অনেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
দুদক জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা চেয়ে আরও তদন্ত করবে। আদালতের সূত্র বলছে, তদন্তে আরও সম্পদের তথ্য মিললে পরবর্তীতে আরও জব্দ বা অবরোধের আদেশ দেওয়া হতে পারে।
এই মামলা এখন দেশের দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
