বেলুচিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভারতের হাত রয়েছে: পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী; ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া নেই
বৃহস্পতিবার (৮ মে) জাতীয় পরিষদে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে এবং পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, সরকারের কাছে "নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" রয়েছে। তবে ভারত এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আতাউল্লাহ তারার জাতীয় পরিষদে বলেন, “এটি কোনো অনুমান নয় — আমাদের কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ভারতীয় সংস্থাগুলো বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে। আমরা এমন বার্তা আটক করেছি এবং এমন সামগ্রী উদ্ধার করেছি যা ভারতের সরাসরি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান বিষয়টি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপন করবে এবং ভারতের “প্রক্সি যুদ্ধ” নীতিকে উন্মোচিত করবে।
বিরোধীদলীয় নেতারা বিষয়টির স্বচ্ছতা ও প্রমাণ প্রকাশের দাবি তুলেছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেত্রী শাজিয়া মাররি বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। যদি এটির সত্যতা থাকে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া দরকার। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে এটি যেন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের মাধ্যম না হয়ে ওঠে।”
বেলুচিস্তান, পাকিস্তানের বৃহত্তম ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ প্রদেশ হলেও, বহু বছর ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জর্জরিত। পাকিস্তান বারবার দাবি করে আসছে, এ অঞ্চলে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে।
২০১৬ সালে কুলভূষণ যাদব নামে এক ভারতীয় নাগরিককে বেলুচিস্তান থেকে গ্রেফতার করার দাবি করে পাকিস্তান। তাদের অভিযোগ, যাদব ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সদস্য এবং পাকিস্তানে নাশকতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং জানায়, যাদব একজন অবসরপ্রাপ্ত নৌ-অফিসার যাকে ইরান থেকে অপহরণ করা হয়েছে।
ভারতের নীরব প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই আতাউল্লাহ তারারের এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং ভারত সরকার কীভাবে তা মোকাবিলা করবে — তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।
