ভারত বিশ্বকে দেখিয়েছে কিভাবে পানি মারণাস্ত্রে পরিণত করা যায়” — মির্জা আব্বাসের তীব্র সমালোচনা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভারতকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, প্রতিবেশী এই দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে নজিরবিহীনভাবে পানিকে “মারণাস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করছে। শনিবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ভারতের একতরফা নদীশাসন বাংলাদেশের জন্য মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি করছে।
ঢাকায় বিএনপি আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন,
“পানি কখনো মারণাস্ত্র হতে পারে না। পানি কখনো যুদ্ধাস্ত্র হতে পারে না। একমাত্র ভারত সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল, পানিকে তারা মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। কতটুকু অমানবিক হলে তারা এমন কাজ করতে পারে!”
তিনি দাবি করেন, গঙ্গা, তিস্তা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর প্রবাহ একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ভারত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চরম খরা কিংবা আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর কৃষকরা এর মারাত্মক ভুক্তভোগী।
ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ভারত সরকার জানিয়ে এসেছে যে, তারা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে ন্যায্য পানিবণ্টনের পক্ষে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান চায়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. রেজাউল করিম বলেন,
“সীমান্তবর্তী নদী ব্যবস্থাপনায় একতরফা পদক্ষেপ নয়, দরকার পারস্পরিক সমন্বয়। এক দেশের সিদ্ধান্তে যদি আরেক দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে, সেটা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বহুদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণকে অজুহাত বানিয়ে বারবার বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ উপায়েই সীমান্ত নদীগুলোর সমস্যার সমাধান সম্ভব। পানি বিভাজনের নয়, সংহতির মাধ্যম হওয়া উচিত।”
ভারত ও বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহার করে, যার মধ্যে কেবল গঙ্গা নদীর ওপর ১৯৯৬ সালের একটি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে তিস্তা নদী নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আপত্তিকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান পানি সংকট এবং একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে নদীসম্পদ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মির্জা আব্বাসের বক্তব্য দেশের ভেতরে উদ্বেগ প্রকাশের একটি প্রতিচ্ছবি, যা দ্রুত, কার্যকর এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
