পেহেলগাম হামলার পর মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন বিমানবাহিনী প্রধান; উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের ইঙ্গিত
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। চলমান ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
শনিবার সকালে পেহেলগামের একটি পর্যটকবাহী বাসে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা চালায়, যাতে ২৬ জন নিহত হন এবং আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা যেখানে পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেন বিমানবাহিনী প্রধান। নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সূত্র জানায়:
“বৈঠকে সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিমানবাহিনীর প্রস্তুতি, এবং প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।”
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,
“এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। নিরীহ পর্যটকদের ওপর হামলা ভারত কখনো সহ্য করবে না।”
হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনকে দায়ী করছে। তবে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) অনিল কাপুর মনে করেন,
“এই ধরনের বৈঠক স্পষ্ট করে যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী উচ্চমাত্রার সতর্কতায় রয়েছে। এটি কেবল প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ নয়, বরং কৌশলগত প্রস্তুতির একটি প্রদর্শনী।”
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর ভারত বালাকোটে বিমান হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলাটি সেই উত্তেজনাকে আবারও উসকে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন কেবল সীমান্ত রক্ষায় নয়, দেশের অভ্যন্তরেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি প্রতিহত করতে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। সরকার ও সেনা নেতৃত্বের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতির প্রমাণ দেয়।
এই হামলার পটভূমিতে বিমানবাহিনী প্রধানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি এটি প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও একটি বার্তা—ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনোরকম ছাড় দেবে না।
