দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নজরদারির আহ্বান সাখাওয়াত হোসেনের

News Report

দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের আগে কমপক্ষে তিন বছর দলীয় সম্পৃক্ততা থাকা উচিত, এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত এমন নীতি বাস্তবায়ন করা।

শনিবার (৩ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ‘শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দলীয় মনোনয়ন যেন অর্থের বিনিময়ে বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে। রাজনীতি এখন ব্যবসার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”

তিনি আরও বলেন, “একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিতে আসতে চাইলে কমপক্ষে তিন বছর দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা উচিত। এটি নিশ্চিত করা গেলে টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনার প্রবণতা কমবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কঠোর নীতি থাকা উচিত।”

কারখানা শ্রমিকদের প্রাপ্যতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর যন্ত্রপাতি ও মালিকদের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা মেটানোর কাজ চলছে। এ বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. সাখাওয়াত আরও বলেন, “যদি কোনো নতুন বিনিয়োগকারী শ্রমিকদের পাওনা মিটিয়ে বন্ধ কারখানা চালু করতে চান, তবে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। এতে শ্রমিকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি শিল্প খাতেও গতি আসবে।”

শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১,১০০ জনের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে ঐ দুর্ঘটনায়।

এ প্রসঙ্গে ড. সাখাওয়াত বলেন, “রানা প্লাজা ধসের পর আওয়ামী লীগ সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিয়ে তখন একটি নাটক বানানো হয়েছিল, যার নাম ছিল রেশমা।”

শ্রমিক অধিকার, রাজনৈতিক শুদ্ধতা ও দলীয় মনোনয়নে স্বচ্ছতা নিয়ে উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তার মন্তব্য দেশজুড়ে শ্রমিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

Next News Previous News