নারী সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবি, না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি হেফাজতের

News Report

নারী সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। শনিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলামের আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।

ড. কাদের বলেন, “যদি আমাদের দাবি না মানা হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

তিনি সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, “আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন না। যদি জাতি ও হেফাজত নেমে আসে, তাহলে কোনো উপদেষ্টা এ দেশে থাকতে পারবে না।”

হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো—নারী ও শিশু উন্নয়ন নীতির অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ‘নারী সংস্কার কমিশন’ বাতিল, পাঠ্যবই থেকে ইসলামবিরোধী বিষয়বস্তু অপসারণ, গ্রেপ্তারকৃত আলেমদের মুক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী কার্যক্রম বন্ধ করা।

সমাবেশে ড. কাদের ছাড়াও হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান সরকার ইসলাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ‘একটি নির্দিষ্ট নীতিতে’ কাজ করছে, যা ধর্মপ্রাণ জনগণের অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক।

হেফাজতে ইসলাম একটি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামী সংগঠন, যা মাঝে মাঝে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ২০১৩ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের বড় ধরনের আন্দোলনের ফলে তারা আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সম্প্রতি নারী অধিকার, শিক্ষা ও ধর্মীয় বিষয়ক কিছু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি ফের সক্রিয় হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক মহাসমাবেশ সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটির দাবি ও কর্মসূচি জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতির ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সরকার ও প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।

Next News Previous News