যুক্তরাষ্ট্রের ১৩১ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা প্রস্তাবে ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ়

ভারতকে ১৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সহায়তা ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Pentagon) থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সহায়তা প্রস্তাবের আওতায় ভারত পাবে এয়ারবোর্ন লজিস্টিক সাপোর্ট, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা।

এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারতীয় নৌবাহিনীর পি-৮আই মেরিটাইম প্যাট্রোল বিমানের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনুমোদনের পর চূড়ান্ত রূপ পাবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধুমাত্র সরঞ্জাম নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (DSCA) এর মুখপাত্র বলেন, “এই প্রস্তাব ভারতের সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনে সহায়তা করবে।”

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বিগত এক দশকে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে উভয় দেশ 'লজিস্টিক এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অব অ্যাগ্রিমেন্ট (LEMOA)' স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে একে অপরের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা নিতে পারছে।

ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, চিনুক হেলিকপ্টার, এবং MH-60R নেভাল হেলিকপ্টার। পাশাপাশি, উভয় দেশ REGULAR সামরিক মহড়া যেমন ‘Malabar’–এ অংশ নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সহায়তা প্রস্তাব শুধু ভারতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত করছে না, বরং এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারও তুলে ধরছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Next News Previous News