জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সংলাপের পরবর্তী ধাপ দ্রুত চূড়ান্তের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরবর্তী ধাপের আলোচনা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান কার্যক্রম, আলোচনার অগ্রগতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া প্রাথমিক সংলাপ পর্যালোচনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা মত দেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তি তৈরি করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
“সমঝোতার পথ তৈরির জন্য শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, তার সঙ্গে প্রয়োজন কার্যকর কর্মপরিকল্পনা ও সময়ানুবর্তিতা। আমরা আর দেরি করতে পারি না।”
— প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা
তিনি সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পরামর্শ দেন যাতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপের সময়সূচি, আলোচ্য বিষয় এবং কাঠামো নির্ধারণ করে কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
“সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ আলোচনা কাঠামো তৈরি করে সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন।”
— অ্যাডভোকেট ফারহানা রহমান, মুখপাত্র, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন
“এই উদ্যোগকে সকল পক্ষ আন্তরিকভাবে গ্রহণ করলে রাজনৈতিক সংকট অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
— কমিশনের এক সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
গত কয়েক মাস ধরেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজন গভীর হয়েছে। নির্বাচন, প্রশাসনিক কাঠামো, এবং সুশাসন নিয়ে বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য চরমে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারপ্রধানের পরামর্শে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে প্রথম দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে কমিশন। তাতে অংশ নেওয়া দলের নেতারা সকলেই একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার তৎপরতায় রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গঠনের কাজ এখন গতি পাচ্ছে। তবে এতে রাজনৈতিক দলগুলোর বাস্তবিক সহযোগিতা ও আস্থাই হবে সাফল্যের প্রধান নিয়ামক। সামনে নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ার আগে এই আলোচনা কাঠামো বাস্তবে রূপ নিতে পারলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
