দিনাজপুর সীমান্তে দুই বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, প্রতিবাদে ভারতীয় দুই নাগরিককে আটক করলো গ্রামবাসী
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মজৈন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দুই বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার পর বিজিবি কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বিরল উপজেলার ধর্মজৈন সীমান্তের ৩২০ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি জমিতে ধান কাটছিলেন কৃষক এনামুল হোসেন ও তার ছেলে মাসুদ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা হঠাৎ করে এসে তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং সীমান্ত পার করে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা ভারতীয় নাগরিক অবিনাশ টুডু ও ফিলিপ সরেনকে আটক করে। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর গ্রামবাসীরা তাদেরকে বিজিবির হাতে তুলে দেয়।
দিনাজপুর-২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান মাহমুদ বলেন, “আমাদের দুই নাগরিক নিজ ভূমিতে কৃষিকাজ করছিলেন। এমন সময় বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে যায়, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “ওরা শুধু ধান কাটছিল। হঠাৎ দেখি বিএসএফ এসে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারিতেও এই একই সীমান্তে বিএসএফ এক বাংলাদেশি কিশোরকে ধরে নিয়ে গেলে উত্তেজনার মধ্যে এক ভারতীয় কৃষককে আটক করে আনে স্থানীয়রা।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ভারতীয় দুই নাগরিক সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। বর্তমানে তারা বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন এবং কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সুসংহত যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ।
