২৪-এর জুলাইয়ে ঠিক এভাবে ন্যাশনাল মেডিকেলে ঢুকে ছাত্রলীগ হামলা করেছিল : ডা. মাহমুদা মিতু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের পর নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ও একই ধরনেরভাবে ন্যাশনাল মেডিকেলে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তিনি বর্তমান ঘটনাকে সেই সময়ের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। তবে তার এই তুলনা ও মূল্যায়ন একটি রাজনৈতিক বক্তব্য; এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর আহত কয়েকজনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের কিছু নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চূড়ান্ত তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনাটির দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ডা. মাহমুদা মিতু তার ফেসবুক পোস্টে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ঘটনার স্মৃতি তুলে ধরে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিল খুঁজেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে অতীতের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার তুলনা করে বক্তব্য দেওয়া নতুন নয়। তবে ইতিহাসবিদ ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এমন তুলনা তখনই তথ্যগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, যখন তা প্রত্যক্ষ প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন বা নির্ভরযোগ্য নথির মাধ্যমে সমর্থিত হয়। অন্যথায় সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবেই বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং চিকিৎসা-নৈতিকতার মৌলিক নীতিতে হাসপাতালকে একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংঘাত বা রাজনৈতিক সহিংসতার সময় চিকিৎসাধীন রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বাংলাদেশেও হাসপাতালের ভেতরে সহিংসতা বা চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ফৌজদারি আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তদন্তে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংঘর্ষ যখন হাসপাতাল পর্যন্ত গড়িয়ে যায়, তখন বিষয়টি শুধু ছাত্ররাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন এবং ডা. মাহমুদা মিতুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতীতের একটি ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার তুলনা করেছেন। তবে হাসপাতালের হামলার প্রকৃত ঘটনা, দায়ী ব্যক্তি বা সংগঠন এবং ডা. মিতুর উত্থাপিত ঐতিহাসিক তুলনার যথার্থতা সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই যাচাইকৃত তথ্য, প্রত্যক্ষ প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ ঘটনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা উচিত।
