ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা নিরসনে একসঙ্গে কাজ করবে সরকার ও বিরোধীদল
রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ও প্রধান বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মাঠপর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিত করতে বিশেষ পরিদর্শন
বুধবার দিনব্যাপী ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। কর্মসূচির শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে আনন্দবাজার খাল, পূর্ব মনিপুরের বিভিন্ন এলাকা, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়।
এ সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও পরিদর্শনে অংশ নেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগে উঠে এল নানা সমস্যা
স্থানীয় জনগণ প্রতিমন্ত্রীর কাছে পানির সংকট, গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বাজারের অবৈধ দখল, যানজট, মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
অভিযোগগুলো শুনে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন এবং সমস্যাগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করার কথা জানান।
উন্নয়ন থেকে কোনো এলাকা বঞ্চিত হবে না
মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা নির্বাচনি অবস্থান বিবেচনা না করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
তিনি জানান, বিরোধী দলীয় নেতার নির্বাচনি এলাকা হওয়ায় ঢাকা-১৫ যেন উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি নাগরিকদেরও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিগগিরই হবে যৌথ কর্মপরিকল্পনা
পরিদর্শনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রধান বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প ও উদ্যোগগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও নাগরিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বার্থে সহযোগিতার বার্তা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি জনস্বার্থে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিষয়গুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনীতিতে সহযোগিতার নতুন বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। উন্নয়ন ও জনসেবার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে এসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।
Source: Based on reporting from Jugantor
