কার মাধ্যমে তদবির বাণিজ্য করতেন হাসনাত-সারজিস, জানালেন রাশেদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুক পোস্টে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন

বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, তারা সরাসরি কোনো অনিয়মে জড়িত না থাকলেও তাদের ঘনিষ্ঠ বা সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

পোস্টে তিনি বিশেষভাবে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাঁর ভূমিকা এবং দায়িত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ডিসি নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ

রাশেদ খানের অভিযোগ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দুদকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

ফেসবুক পোস্টে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, অতীতে কিছু অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে এবং সেসব বিষয় পুনরায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

রাশেদ খান আরও বলেন, যেসব অভিযোগ একসময় নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল, সেগুলোর কিছু বিষয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠছে। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।

টিআইবির প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ

পোস্টে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে, যা নতুন করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত তথ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের এমন বক্তব্য ও অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা

রাশেদ খানের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতামত প্রকাশ পাচ্ছে।

Source: Based on reporting from Jugantor and statements published on a verified Facebook post by Rashad Khan

Next News Previous News