প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা করা হবে: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে দ্বিধা করবে না ইসরাইল। তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে একটি নতুন সমঝোতা কাঠামো কার্যকর হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর নতুন বার্তা

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে ঘিরে নিজের সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইল অতীতে ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এই কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সমঝোতার আওতায় যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কেন উদ্বিগ্ন ইসরাইল?

ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও তেহরান বারবার বলে এসেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তবুও ইসরাইলি নেতৃত্ব মনে করে, ইরানের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতায় রূপ নিতে পারে। এ কারণেই দেশটি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইরানের ওপর কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি করলেও ইসরাইলের কঠোর অবস্থান নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ফলে যেকোনো সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা দেখা দিলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এমন পরিস্থিতি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাধারণত এ অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধান ও সংলাপকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

পরিস্থিতির দিকে নজর বিশ্ববাসীর

ইরানকে ঘিরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কীভাবে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো মোকাবিলা করে, তার ওপর আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

Source: Based on reporting from Anadolu Agency

Next News Previous News