মায়ানমারে ৫ মিনিটে ৪ বিস্ফোরণ, ঝাঁকুনি টেকনাফ সীমান্তে
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চার দফা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেলে সীমান্তঘেঁষা জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেঁপে ওঠে এবং অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণগুলো মায়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পাঁচ মিনিটে চার দফা বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৯টা ৩৭ মিনিট থেকে ৯টা ৪২ মিনিটের মধ্যে টেকনাফের জাদিমুড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় পরপর চারটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের ঝলকও দেখা গেছে। এরপর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আবারও উত্তপ্ত রাখাইন সীমান্ত
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ কয়েক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ এবং বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাখাইন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যেই অনুভূত হয়। অতীতে মর্টার শেল বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং সংঘর্ষের কারণে সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
বিজিবির নজরদারি জোরদার
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মায়ানমারের মংডু এলাকার ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্তের এপারেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে।
বিজিবি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
প্রশাসনের সতর্ক বার্তা
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির উন্নয়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: সারাবাংলা
