হরমুজে মাইন অপসারণে আপস নয়, ফ্রান্সকে 'না' বলল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে বিদেশি সহায়তায় আপত্তি, ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন অপসারণে বিদেশি অংশগ্রহণের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে মাইন অপসারণের দায়িত্ব কেবল ইরানই পালন করবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিদেশি দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্রান্স-সমর্থিত একটি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে তেহরান তাদের অবস্থান আরও কঠোরভাবে তুলে ধরেছে।

ফ্রান্সের প্রস্তাবে তেহরানের ‘না’

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজ সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল এলাকায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তার ভাষায়, এই বিষয়ে উসকানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত। এ বক্তব্যের মাধ্যমে ফ্রান্সের সমর্থিত প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই জলপথে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই এলাকায় মাইন পাতা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

ইউরোপের উদ্বেগ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে বহুজাতিক মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা মিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে ইরান শুরু থেকেই বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে।

বাংলাদেশের জন্য কী প্রভাব?

বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব দেশীয় জ্বালানির মূল্য, শিল্প উৎপাদন এবং আমদানি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা।

পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে বিদেশি সহায়তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তারা। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর আরও বেড়েছে।

Next News Previous News