ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা হামলা আইআরজিসির

ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও উপকূলীয় গোরুক এলাকার একাধিক রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত ফল দেয়নি। যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৫ জুন) নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালীর দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।

সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এ কারণে ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিক শহর ও কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেনও বেজে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Next News Previous News