বিক্ষোভে যোগ দিতে দেশে ফিরলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা
ভারতের জেন-জি নেতৃত্বাধীন অনলাইন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
সানডে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় ৮টায় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান অভিজিৎ দীপকে। পরে তিনি বিক্ষোভের অনুমতি নিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার উদ্দেশে রওনা হন।
দিল্লিতে পৌঁছে অভিজিৎ বলেন, তিনি যন্তরমন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের এই আন্দোলন ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।”
সিজেপির পক্ষ থেকে সমর্থক ও শিক্ষার্থীদের সকাল ৯টা থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সিজেপির ডিজিটাল শাখার মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, তারা আশা করছেন এই কর্মসূচি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তরমন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতির আবেদন তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তবুও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের মূল দাবি হলো এনইইটি-ইউজি, সিইউইটি, এসএসসি জিডি ও সিবিএসইসহ বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
ককরোচ জনতা পার্টি প্রথমে একটি ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা হিসেবে শুরু হলেও পরে তা বৃহৎ যুব আন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে অভিজিৎ দীপকে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করেন।
যদিও সিজেপি এখনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, তবে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনটি শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা, পরীক্ষা সংস্কার এবং তরুণদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
