ময়মনসিংহে জন্মদিনের কেক কেটে বাড়ি ফেরার পথে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা
নিজের ২৩তম জন্মদিন উদ্যাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের কলেজছাত্র নাহিয়ান রবিন। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁর চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মোটরসাইকেলের গতি থামায়, পরে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাজীব নামের এক যুবককে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে দুটি পিস্তল, গুলি, ম্যাগজিন ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কেক কেটে ফেরার সময় হামলা
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজমিস্ত্রির সহযোগী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাহিয়ান ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তবে কোনো পদে ছিলেন না।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, জন্মদিন উপলক্ষে রাত ১২টা ১ মিনিটে গফরগাঁও ডাকবাংলো চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে কেক কাটেন নাহিয়ান। পরে প্রতিবেশী বন্ধু শাকিবুল হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
বাসার কাছাকাছি শিলাসী মাজার রোড এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন মুখোশধারী তাদের লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তারা।
মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে হামলার অভিযোগ
বন্ধু শাকিবুল হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে তাদের দুজনকেই মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হন। পরে নাহিয়ানকে ঘিরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়দের সহায়তায় নাহিয়ানকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক বিরোধের সন্দেহ
নাহিয়ানের স্বজনদের ধারণা, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তারা জানান, নাহিয়ান ছাত্রলীগের সমর্থক ছিলেন, তবে সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ হামলা হয়েছে, তা তদন্তের পর পরিষ্কার হবে।
আটক ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের বক্তব্য
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক রাজীবও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা পূর্ব বিরোধের কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। তার বাড়ি থেকে কিছু আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, রাজনৈতিক বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
তদন্ত ও বিচার নিয়ে প্রত্যাশা
একজন তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
Source: Based on reporting from national news reports
