কওমি ধারার মাদরাসা শিক্ষার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি জামায়াত আমিরের

দেশের কওমি ধারার মাদরাসা শিক্ষা, ইবতেদায়ি মাদরাসা এবং দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে বৈষম্য দূর করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। সংসদের অধিবেশনে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, মাদরাসা শিক্ষার অবস্থান এবং এমপিওভুক্তির বিষয়েও বক্তব্য দেন।

কওমি শিক্ষার জন্য সরকারি সহায়তার প্রস্তাব

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের লাখো শিক্ষার্থী কওমি ধারার মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই সরকারি সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার স্বাতন্ত্র্য ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে থাকে।

তার মতে, এ বিষয়ে সরকারের উচিত কওমি মাদরাসাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কাওমিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। যাতে সরকারি সহায়তা পাওয়া গেলেও শিক্ষা ব্যবস্থার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও নীতিমালা অক্ষুণ্ন থাকে।

ইবতেদায়ি ও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ

বিরোধী দলীয় নেতা ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর জন্যও বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি জানান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর অনেক শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আশায় অপেক্ষা করছেন। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

যোগ্যতা ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশের সব উপযুক্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত সরকারি শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রই পালন করে। বাংলাদেশেও সেই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তার মতে, শিক্ষাকে কেবল অবকাঠামো বা প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাজেট আলোচনায় শিক্ষাখাতের গুরুত্ব

চলতি বাজেট অধিবেশনে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, মাদরাসা শিক্ষা এবং এমপিওভুক্তির বিষয়গুলো বিভিন্ন সংসদ সদস্যের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এসব বিষয়ে কার্যকর নীতি গ্রহণের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরন ভেদে বৈষম্য কমিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সহজ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

উপসংহার

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় কওমি মাদরাসা, ইবতেদায়ি মাদরাসা এবং নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দের দাবি তুলে নতুন করে শিক্ষাখাতের অন্তর্ভুক্তি ও সমতা নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এখন এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং বাজেটে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

সূত্র: জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News