আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী
আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য ও করহার পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগের বছরের মতোই বিড়ি খাতের কর কাঠামো বহাল থাকবে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিড়ির দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
সংসদে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর তথ্য
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য জানতে চান, তামাকজাত পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর বাড়ানো হবে কি না। বিশেষ করে বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রেখে অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক বা নির্দিষ্ট কর আরোপের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী—এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেন।
বর্তমান কর কাঠামোই বহাল
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি খাতের মূল্য ও করহার আগের বছরের মতো অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বিড়ির বাজারমূল্যে নতুন করে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
সরকার সাধারণত তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে একদিকে রাজস্ব সংগ্রহ এবং অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য বিবেচনা করে থাকে। বিড়ি দেশের একটি পুরোনো তামাকজাত পণ্য হওয়ায় এর করনীতি নিয়ে প্রতিবছর বাজেট আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব—দুই দিকেই নজর
তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে কর বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে বিড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও উৎপাদকদের বিষয়টিও সরকারের নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা
আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন খাতে আলোচনা চলছে। করনীতি, ভোক্তা ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পাশাপাশি তামাকজাত পণ্যের বিষয়টিও আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্তত আগামী অর্থবছরের জন্য বিড়ির মূল্য ও করহার আগের অবস্থাতেই থাকছে।
Source: Based on reporting from national news reports
